ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
প্রভাতী টিভি

অতিথি আপ্যায়নে ঘরে আসে রহমত


প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

অতিথি আপ্যায়নে ঘরে আসে রহমত
প্রতীকী ছবি

মুসলিম ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ এবং সৌন্দর্য হলো অতিথি আপ্যায়ন। মুসলিম সমাজে মেহমানকে আল্লাহর রহমত মনে করা হয়। অতিথিকে সেবা করা ইমানের অন্যতম বাহ্যিক প্রকাশ এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক উৎকৃষ্ট মাধ্যম।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও বিভিন্ন হাদিসে অতিথি আপ্যায়নের ফজিলত ও অগাধ সওয়াবের কথা অত্যন্ত সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের (কিয়ামত) প্রতি ইমান রাখে, সে যেন তার অতিথিকে সম্মান করে।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

অতিথির স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা এবং তাঁকে আহার করানোকে ইসলামে নফল সদকার সমতুল্য সাওয়াব হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মহানবী (সা.) অতিথি আপ্যায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে বলেছেন, ‘তোমাদের মেহমানদারি করার বিশেষ মেহমানদারির মেয়াদ এক দিন ও এক রাত। আর সাধারণ মেহমানদারি তিন দিন পর্যন্ত। এর অতিরিক্ত যা করা হবে, তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

অতিথি আগমন গৃহস্থের জন্য কোনো বোঝা নয়, বরং পরম সৌভাগ্যের বিষয়। আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো অতিথি কোনো পরিবার বা ঘরে আগমন করে, সে তার নিজের রিজিক নিয়েই আগমন করে। আর যখন সে প্রস্থান করে, তখন সে গৃহস্থের গুনাহগুলো মাফ করিয়ে প্রস্থান করে।’ (শুআবুল ইমান, বায়হাকি)

মদিনায় হিজরতের পর মুসলিম সমাজ গঠনের প্রারম্ভেই রাসুলুল্লাহ (সা.) যে মৌলিক উপদেশগুলো দিয়েছিলেন, তার অন্যতম ছিল মেহমানদারি। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) মদিনায় পৌঁছে প্রথম যে উপদেশটি দিয়েছিলেন তা হলো, ‘হে লোকসকল! তোমরা সালামের বিস্তার করো, আহার করাও (মেহমানদারি করো ও অভাবীকে খাদ্য দাও) এবং মানুষ যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করো; তাহলে তোমরা পরম শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (জামে তিরমিজি)

বিষয় : ছাপা সংস্করণ ইসলাম নৈতিকতা মুসলিম

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

প্রভাতী টিভি

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


অতিথি আপ্যায়নে ঘরে আসে রহমত

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মুসলিম ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ এবং সৌন্দর্য হলো অতিথি আপ্যায়ন। মুসলিম সমাজে মেহমানকে আল্লাহর রহমত মনে করা হয়। অতিথিকে সেবা করা ইমানের অন্যতম বাহ্যিক প্রকাশ এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক উৎকৃষ্ট মাধ্যম।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও বিভিন্ন হাদিসে অতিথি আপ্যায়নের ফজিলত ও অগাধ সওয়াবের কথা অত্যন্ত সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের (কিয়ামত) প্রতি ইমান রাখে, সে যেন তার অতিথিকে সম্মান করে।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

অতিথির স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা এবং তাঁকে আহার করানোকে ইসলামে নফল সদকার সমতুল্য সাওয়াব হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মহানবী (সা.) অতিথি আপ্যায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে বলেছেন, ‘তোমাদের মেহমানদারি করার বিশেষ মেহমানদারির মেয়াদ এক দিন ও এক রাত। আর সাধারণ মেহমানদারি তিন দিন পর্যন্ত। এর অতিরিক্ত যা করা হবে, তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

অতিথি আগমন গৃহস্থের জন্য কোনো বোঝা নয়, বরং পরম সৌভাগ্যের বিষয়। আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো অতিথি কোনো পরিবার বা ঘরে আগমন করে, সে তার নিজের রিজিক নিয়েই আগমন করে। আর যখন সে প্রস্থান করে, তখন সে গৃহস্থের গুনাহগুলো মাফ করিয়ে প্রস্থান করে।’ (শুআবুল ইমান, বায়হাকি)

মদিনায় হিজরতের পর মুসলিম সমাজ গঠনের প্রারম্ভেই রাসুলুল্লাহ (সা.) যে মৌলিক উপদেশগুলো দিয়েছিলেন, তার অন্যতম ছিল মেহমানদারি। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) মদিনায় পৌঁছে প্রথম যে উপদেশটি দিয়েছিলেন তা হলো, ‘হে লোকসকল! তোমরা সালামের বিস্তার করো, আহার করাও (মেহমানদারি করো ও অভাবীকে খাদ্য দাও) এবং মানুষ যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করো; তাহলে তোমরা পরম শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (জামে তিরমিজি)


প্রভাতী টিভি

সম্পাদক ও প্রকাশক: ...
নির্বাহী সম্পাদক : ...
বার্তা সম্পাদক : ..
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত প্রভাতী টিভি
অতিথি আপ্যায়নে ঘরে আসে রহমত
0:00 0:00
1.0x